গাজরের উপকারিতা ও অন্যান্য খুঁটিনাটি :
আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো গাঁজর খেতে ভালোবাসেন কারণ এর স্বাদ মিষ্টি ধরণের। অনেকে কাঁচাও খান বা স্যালাড বা জুস করে খেতে পছন্দ করেন। আবার অনেকে পছন্দও করেন না এটি খেতে। তবে আপনি জানেন কি গাজরের উপকারিতা সঠিকভাবে ? আজ আমরা গাজরের উপকারিতাই শুধু নয়, এ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও আপনাদের জানাবো ।
গাজরের বিজ্ঞানভিত্তিক নাম হল ডাউকাস ক্যারোটা ( Daucus carota) । এটি প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। প্রচুর গবেষণায় তা আজ প্রমাণিত। পাঁচ হাজারেরও বেশি সময় ধরে আমরা এই সবজি খেয়ে আসছি। এটির উৎপত্তি স্থান মধ্য প্রাচ্য ও আফগানিস্থানে।
চলুন তবে জেনে নিই গাজর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য।
গাঁজর রঙই হল এর পুষ্টিগুণের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয় । আজকাল বিজ্ঞানীরা হলুদ, লাল এবং গাঢ় কমলা রঙেরও গাজর তৈরী করছেন। চোখ, ত্বক, চুল এবং শরীরের অন্যান্য অংশের জন্যও গাজরের উপকারিতা প্রচুর। শরীরে দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন এ -র ঘাটতি থাকলে রাতকানা রোগ হতে পারে। গাজরে থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, যা এই ঘাটতি মিশিয়ে এই রোগকে সারিয়ে তুলতে পারে । এছাড়া এটি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। হার্টকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করার পর জানা গেছে যে গাজর খেলে শরীরে কোলেস্টেরল কমে ও দেহে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তাই এটি কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে ।
কাঁচা গাজরে পেক্টিন নামক এক ধরণের ফাইবার উপস্থিত যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান কমাতে সাহায্য করে । তাই আজ প্রমাণিত, গাজরে প্রচুর পরিমানে ফাইটোকেমিক্যালস থাকে, যা অ্যান্টি-ক্যান্সারের উপাদান বহন করে । এই উপাদানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিটা ক্যারোটিন ও কিছু ধরণের ক্যারোটিনয়েড। এই উপাদানগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনকে সক্রিয় করে যা ক্যান্সারের কোষকে রোধ করতে পারে। এছাড়া গাজরের রস
লিউকোমিয়া সারাতেও উপযোগী । গাজরে উপস্থিত ক্যারোটিনয়েডগুলি পেট, কোলন, প্রস্টেট, ফুসফুস ও মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে বলে জানা যায়। তাই নিয়মিত গাঁজর খাওয়া অনেক প্রয়োজন ।



0 Comments